কৈ মাছ চাষ:

ব্লগটি শেয়ার করুন:

কৈ মাছ চাষ: পদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা ও রোগ ব্যবস্থাপনা

কৈ মাছের পরিচিতি

যে মাছ সহজে জীবিত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো কৈ মাছ। প্রাকৃতিকভাবে কৈ মাছ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানির বাইরে বেঁচে থাকতে পারে। এক সময় এ মাছ শুধু প্রাকৃতিক উৎস থেকেই সংগ্রহ করা হতো, তবে বর্তমানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক হারে কৈ মাছের চাষ করা হচ্ছে এবং উৎপাদনও সন্তোষজনক।

কৈ মাছ চাষের পদ্ধতি

কৈ মাছ চাষের জন্য ২০-৪০ শতকের এবং ৩-৪ ফুট গভীরতার পুকুর সবচেয়ে উপযোগী। পুকুরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা রোদ পড়ে এমন হওয়া উচিত।

পুকুর শুকিয়ে শতকে ১০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করতে হবে। তিন দিন পর শতকে ১ কেজি হালকা গরম তরল চুন ব্যবহার করে আরও ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পানি প্রবেশ করানোর ৩ দিন পর শতকে ১৫০ গ্রাম ময়দা, ৫০ গ্রাম চিটাগুড় ও ৫০০ মিলি পানি মিশিয়ে ৪৮ ঘণ্টা ফার্মেন্ট করে পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে।

পানির রং হালকা সবুজ হয়ে এলে শতকে ৮০০-১২০০টি সুস্থ ও সবল কৈ মাছের পোনা মজুদ করা যায়। তবে পানি পরিবর্তনের সুবিধা না থাকলে শতকে ৮০০টির বেশি পোনা মজুদ না করাই ভালো। পাশাপাশি শতকে ১টি কাতলা, ১টি মৃগেল, ২টি রুই এবং ২টি সিলভার কার্প মজুদ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৈ মাছ চাষের সুবিধা

  • মৃত্যুহার তুলনামূলক কম
  • অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি
  • জীবিত অবস্থায় সহজে বাজারজাত করা যায়
  • পরিবহন সুবিধাজনক
  • অল্প সময়ে বিক্রিযোগ্য আকারে পৌঁছে যায়

কৈ মাছ চাষের অসুবিধা

  • নিয়মিত পানি পরিবর্তন প্রয়োজন
  • উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ দামি খাদ্য লাগে
  • উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সময় বাজারমূল্য কমে যায়
  • নিবিড় ব্যবস্থাপনায় চাষ করতে হয়
  • উঁচু পাড় ও চারপাশে নিরাপদ ঘেরযুক্ত পুকুর দরকার

রোগবালাই ও প্রতিকার

কৈ মাছ সাধারণত ক্ষতরোগ, ফাঙ্গাল ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া মাথা পচা রোগও দেখা যায়। যেসব চাষি নিয়মিত ১৫ দিন পরপর ২০-৩০% পানি পরিবর্তন করেন এবং চুন ও লবণ ব্যবহার করেন, তাদের পুকুরে রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম দেখা যায়।

শীতকালে ক্ষতরোগ বেশি দেখা যায়। এ সময় শতকে ৫ গ্রাম করে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দুইবার প্রয়োগ করলে ক্ষতরোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

লাভজনক কৈ মাছ চাষের মূল চাবিকাঠি

কৈ মাছ চাষে সফলতা ও লাভজনক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও দ্রুত বর্ধনশীল পোনা নির্বাচন করা। নিম্নমানের পোনা ব্যবহারের ফলে মৃত্যুহার বৃদ্ধি, বৃদ্ধি কম হওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাই মানসম্মত কৈ মাছের পোনা সংগ্রহের জন্য ভরসা রাখতে পারেন *ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি-এর উপর। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত ব্রুড ব্যবস্থাপনা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে *ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি সারা দেশের চাষিদের জন্য নির্ভরযোগ্য পোনা সরবরাহ করে আসছে।

যোগাযোগ

ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি
ধলা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
মোবাইল: 01711294780 / 01714675832
ইমেইল: sakibhnaim@gmail.com

ব্লগটি শেয়ার করুন: