আমাদের সম্পর্কে

ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মৎস্য চাষীদের পাশে থাকার এক নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার, আস্থা ও সেবার প্রতীক।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে বিজ্ঞানসম্মত, টেকসই এবং লাভজনক একটি শিল্পে রূপান্তর করা। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চাষীরা কম ঝুঁকিতে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে পারেন।

 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা সততা, গুণগত মান এবং বৈজ্ঞানিক চাষ ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। উন্নত ব্রুড নির্বাচন, নিয়ন্ত্রিত প্রজনন পদ্ধতি এবং শতভাগ ইনব্রিডিং-মুক্ত রেনু ও পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা চাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছি।

 

২০০২ সাল থেকে মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে আমরা প্রতিবছর প্রায় ৮ কোটি মনোসেক্স তেলাপিয়া পোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষীদের মধ্যে সরবরাহ করে থাকি।

আমাদের এই ধারাবাহিক মানসম্পন্ন কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে আমরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হই। এই অর্জন আমাদের জন্য গর্বের, পাশাপাশি চাষীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার অনুপ্রেরণা।

 

ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারিতে আধুনিক হ্যাচারি প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান, দক্ষ ফিল্ড স্টাফ এবং একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা টিমের সমন্বয়ে প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমরা শুধুমাত্র রেনু ও পোনা সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নই; বরং চাষের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্রদান করি। আমাদের সেবার মধ্যে রয়েছে—চাষী পরামর্শ, ফিল্ড সাপোর্ট, বাজারজাতকরণ সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টার বিক্রয়োত্তর সেবা।

 

প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন সাকিব হাসান নাঈম—একজন দক্ষ মৎস্য উদ্যোক্তা, অভিজ্ঞ ফিশারিজ কনসালটেন্ট এবং মনোসেক্স তেলাপিয়া বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) থেকে একাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং ২০২০ সাল থেকে সারা দেশের নতুন ও বাণিজ্যিক চাষীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর লক্ষ্য—চাষীরা যেন অনুমান নয়, বরং তথ্য, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আমাদের লক্ষ্য

বাংলাদেশের মৎস্য চাষকে বিজ্ঞানসম্মত, লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত করা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কার্যকর অবদান রাখা।

আমাদের উদ্দেশ্য

ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, গবেষণাভিত্তিক এবং চাষীবান্ধব মৎস্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রোপ্রাইটর এর বার্তা

আমি ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারির ভিত্তি স্থাপন করেছি একটি দৃঢ় বিশ্বাস থেকে—সততা ও বিজ্ঞান একসাথে প্রয়োগ করলেই একজন চাষী প্রকৃত অর্থে সফল ও লাভবান হতে পারেন। আমার কাছে মাছ চাষ কখনোই শুধুমাত্র একটি ব্যবসা নয়; বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব, একটি সেবামূলক উদ্যোগ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম।

 

আমি সবসময় বিশ্বাস করি— একটি সঠিক সিদ্ধান্ত, একটি মানসম্মত পোনা এবং একটি দায়িত্বশীল পরামর্শ একজন চাষীর পুরো ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে।

 

১৯৯২ সালে যখন আমি এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করি, তখন আমাদের সামনে ছিল সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট। তবে আমি কখনোই এই সীমাবদ্ধতাকে বাধা হিসেবে দেখিনি। বরং সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং চাষীর কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই পথচলা শুরু করেছি।

 

শুরু থেকেই আমি উপলব্ধি করেছি— ভুল পোনা বা ভুল পরামর্শ শুধু সাময়িক আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করে না; এটি একজন চাষীর শ্রম, সময়, পুঁজি এবং স্বপ্নকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে আমি গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।

 

আমার নেতৃত্বের মূল দর্শন হলো বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়। আমরা প্রতিটি পোনা উৎপাদন, প্রতিটি নার্সারি কার্যক্রম এবং প্রতিটি চাষী পরামর্শের পেছনে গবেষণা, পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—সুস্থ ও মানসম্মত পোনা ছাড়া সফল মাছ চাষ সম্ভব নয়, এবং সফল চাষ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যায় না।

 

আমি সবসময় একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলি— “আমাদের লক্ষ্য শুধু মাছ বিক্রি করা নয়; আমরা চাষীর সাফল্য নিশ্চিত করতে কাজ করি। বিজ্ঞানই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

দীর্ঘ এই যাত্রায় আমরা নানা চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছি। তবুও সততা, গুণগত মান এবং চাষীদের আস্থাকে ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য সফল চাষীর গল্প আমাদের এই পথচলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

 

আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি চাষীদের পাশে থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক, নির্ভরযোগ্য এবং টেকসই মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই অঙ্গীকারই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।

এম এ বাতেন

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রোপ্রাইটর, ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারী ও নার্সারি